ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ভবিষ্যৎ যেকোনও হামলার জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, হুথিরা মূলত ইরানের ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করে এবং তাদের হামলার দায় শেষ পর্যন্ত তেহরানকেই বহন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক বছর আগে হুথিদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। তার দাবি, ওই অভিযানের পর হুথিরা দীর্ঘ সময় তুলনামূলকভাবে সংযত আচরণ করেছে।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা আবারও হামলা শুরু করেছে। গত রাতে তারা সৌদি আরবের দু’টি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি তারা আবার এমন হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকেই এর জন্য দায়ী করবে। কারণ হুথিরা ইরানের প্রতিনিধি বা প্রক্সি বাহিনী হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবশ্যই হুথিরাও তার পরিণতি ভোগ করবে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুথিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে থাকে। যদিও তেহরান সরাসরি সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের যেকোনও নতুন হামলার জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করার ট্রাম্পের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ এ ধরনের অবস্থান ভবিষ্যতে হুথিদের হামলার জবাবে শুধু ইয়েমেনেই নয়, ইরানের ভেতরেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হুথিদের হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতেও প্রস্তুত থাকতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

