২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপে আলো ছড়ানোর পর ট্রান্সফারমার্কেটে তাঁর বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ৯০০ শতাংশ। একই সঙ্গে সমর্থকদের ভোটে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশেও জায়গা করে নিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
পুরো নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস হলেও ফুটবল বিশ্বে তিনি পরিচিত ‘ভোজিনিয়া’ নামে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৫৮ হাজার মার্কিন ডলার। টুর্নামেন্ট শেষে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ডলারে। বিশ্বকাপের পর শতাংশের হিসেবে কোনো ফুটবলারের বাজারমূল্য এতটা বাড়েনি।
ভোজিনিয়ার উত্থানের শুরু স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের প্রথম ম্যাচে তিনি সাতটি সেভ করে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেন। সেই পারফরম্যান্সই তাঁকে রাতারাতি আলোচনায় নিয়ে আসে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। সেই ম্যাচও গোলশূন্য ড্র হওয়ায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে।
তবে ভোজিনিয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স আসে শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে করেন আটটি সেভ। যদিও শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়, তবু নিজের নৈপুণ্যে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন তিনি।
বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেড়েছে তাঁর জনপ্রিয়তা। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ২ কোটি ৮৩ লাখে, যা থিবো কোর্তোয়া, ম্যানুয়েল নয়ার ও ইকার ক্যাসিয়াসের মতো কিংবদন্তি গোলরক্ষকদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
সর্বশেষ মৌসুমে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেজের হয়ে খেললেও বর্তমানে ক্লাবহীন রয়েছেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর এখন বড় কোনো ক্লাবে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।

