পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্যটি। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এই ফলাফলকে মানতে অস্বীকার করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়নি বরং পরিকল্পিতভাবে অন্তত ১০০টি আসন তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র নিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, এমনকি তাঁকে লাথি পর্যন্ত মারা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যে সময় এই ঘটনা ঘটেছিল, তখন কৌশলে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনও প্রমাণ না থাকে। তাঁর এজেন্টদেরও কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সরব হন। তাঁর কথায়, ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্র করে তাঁকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। নিজের হারের চেয়েও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা এবং মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনকে ‘ভিলেন’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী জানান, এবারের নির্বাচন ছিল পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট। বিচারব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে।
তবে এই ফলাফল সত্ত্বেও দমে না গিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি স্পষ্ট জানান, দল তাঁদের পাশে আছে এবং খুব শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তথ্য অনুসন্ধানী কমিটি গঠন করার কথাও তিনি ঘোষণা করেছেন। পরাজয় স্বীকার না করে বরং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শক্তি বৃদ্ধি এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে এদিনের বৈঠক শেষ করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।

