হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অচেনা মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা শুরু করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা এবং পচন ধরায় অনেক মরদেহ চেহারা দেখে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল পুলিশের কর্মকর্তারা নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাবা-মা, সন্তানসহ প্রথম সারির স্বজনদের রক্তের নমুনা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে তাদের বিদেশে থাকা স্বজনরাও নিজ দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়ে ফলাফল নেপাল পুলিশের কাছে পাঠাতে পারবেন। এরই মধ্যে শত শত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংগৃহীত নমুনা নেপাল পুলিশ ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং নেপাল একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পাঠানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পচন বা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে মরদেহ বিকৃত হয়ে গেলে চেহারা দেখে শনাক্ত করা কঠিন হয়। এ ক্ষেত্রে রক্ত, নরম টিস্যু, হাড় ও দাঁত থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা যায়। এমনকি শরীরের অধিকাংশ টিস্যু পচে গেলেও হাড় থেকে ডিএনএ পাওয়া সম্ভব।
নিখোঁজ ব্যক্তির ডিএনএ সরাসরি পাওয়া গেলে, যেমন তার ব্যবহার করা টুথব্রাশ বা হেয়ারব্রাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহের ডিএনএর সঙ্গে তুলনা করা যায়। তা সম্ভব না হলে বাবা-মা বা সন্তানের মতো নিকট স্বজনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ ও দাঁতের তথ্যও মরদেহ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কাজে নেপালকে সহযোগিতা করছে ভারত ও চীন। ভারত ১৯ সদস্যের একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে। চীনও ডিএনএ শনাক্তকরণে বিশেষজ্ঞদের দ্বিতীয় দল পাঠিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা

