শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ৭২ পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা রাখলেন বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-অনুরাগী থেকে শুরু করে সংগীতাঙ্গনের সহকর্মীরা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভাসাচ্ছেন কালজয়ী এই শিল্পীকে। প্রিয় জ্যেষ্ঠ শিল্পীর জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেন কনকচাঁপা। সেখানে তিনি সাবিনা ইয়াসমিনকে শুধু একজন সংগীতশিল্পী হিসেবেই নয়, একটি ‘ইনস্টিটিউট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কনকচাঁপা লেখেন, “সাবিনা ইয়াসমিন। একটি নাম, একটি ইনস্টিটিউট।” কিংবদন্তি এই শিল্পীর সুরের জাদুকে স্মরণ করতে গিয়ে লেখক ও শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সাঈদের একটি স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন তিনি। কনকচাঁপা জানান, বহু বছর আগে এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সাঈদ দর্শকদের প্রশ্ন করেছিলেন— কোকিল কখন গায়? দর্শকেরা উত্তর দিয়েছিলেন ‘বসন্তে’। এরপর তিনি জানতে চান, সারা বছর সুর ছড়িয়ে মাতিয়ে রাখে কোন পাখি? দর্শকদের উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, সারা বছর গানে মাতিয়ে রাখা সেই পাখিটি আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন।
আবদুল্লাহ আবু সাঈদের সেই কথার সূত্র ধরে কনকচাঁপা লেখেন, সাবিনা ইয়াসমিন শুধু সারা বছর নয়, বাংলাদেশের মানুষকে সারাজীবন গানে ডুবিয়ে, ভাসিয়ে ও উজ্জীবিত করে রেখেছেন। একই সঙ্গে পরিণত বয়সেও কীভাবে তিনি নিজের কণ্ঠের জাদু একই রকম ধরে রেখেছেন, তা গবেষণার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।
দেশের প্রায় সব ঘরানার গানে সাবিনা ইয়াসমিনের বিচরণ ও অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে কনকচাঁপা আরও লেখেন, “’জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’— এই তিনটি কালজয়ী গান ছাড়া তিনি যদি আর কোনো গান নাও গাইতেন, তবু্ও তিনি আজ যেমন মধুকণ্ঠী কোকিল নামে অভিহিত হয়ে গেছেন তেমনই থাকতেন।”
পোস্টের শেষভাগে জ্যেষ্ঠ এই শিল্পীর জন্য ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়ে কনকচাঁপা লেখেন, ‘আজ তার জন্মদিন। আজকের দিনটি একান্তই তার হয়ে যাক, আজকের সব ফুল সাবিনা আপার জন্য ফুটুক এবং আল্লাহ যেন ওনাকে সুস্থ, আনন্দিত, সুরক্ষিত, সুখী ও সমৃদ্ধ রাখেন এই দোয়া করি।’
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা সংগীতজগৎকে সমৃদ্ধ করে আসছেন। ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার কণ্ঠ দেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১০ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করা এই শিল্পীকে ১৯৮৪ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রেকর্ডসংখ্যকবার শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পীর সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

