যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পরিচালিত ইরান যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। কারণ আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা থমকে গেছে এবং তেহরান ও ওয়াশিংটন দুই পক্ষই তাদের অবস্থান নমনীয় করার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বলা যায় যুদ্ধ বন্ধে ‘সম্পূর্ণ বিপরীত’ মেরুতে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার তেহরানের সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, আমরা জানি আলোচনার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিতর্কিত বিষয় রয়েছে। যদি আমরা ইরানের প্রাথমিক ১০-দফা প্রস্তাব এবং আমেরিকানদের ১৫-দফা প্রস্তাবের তুলনা করি, তবে আমরা বুঝতে পারি যে দুই পক্ষই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।
তারা কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এই সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো খোদ কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। আমরা জানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অঞ্চল এবং তার বাইরের সমকক্ষদের সাথে প্রচুর যোগাযোগ ও টেলিফোনে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অবশ্যই, ইসলামাবাদের সফরগুলো আমেরিকানদের সাথে মধ্যস্থতামূলক যোগাযোগের জন্য এবং পরবর্তীতে মাস্কাট সফর-যা আলোচনার আরেকটি ধাপের জন্য। আমরা ওমানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখছি এবং ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব ফুটে উঠছে।
এদিকে, ইরান তার ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখার একটি তালিকা পাকিস্তানকে দিয়েছে, যাতে ইসলামাবাদ তা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে একটি যুদ্ধবিরতি পূর্ণমাত্রার লড়াই থামিয়েছে, তবুও যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

