লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ভারতের কেরালা সফরে আসছে বলে রাজ্যটিতে ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালানো হয়। সফল আয়োজনের জন্য শত কোটি টাকার স্পন্সরও জোগাড়যন্ত চলছিল। অবশ্য এর কিছুদিন পরই লাতিন পরাশক্তি দলটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন কেরালার তৎকালীন সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আব্দুরাহিমান। তার দাবি ছিল, আর্জেন্টিনা ফুটবল দল কেরালায় খেলতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রক্ষা করেনি। এমনকী অর্থ পাঠানো হলেও তারা নাকি কথা রাখেননি।
এরই মধ্যে বেলা অনেকদূর গড়িয়েছে। রাজ্যটির সরকারেও বদল এসেছে। এবার সেখানকার নতুন প্রশাসন দাবি করেছে, মেসিদের সফরটি নাকি ‘স্রেফ ভুয়া’। আর্জেন্টিনা দল নাকি নিজেরাও জানতো না যে তারা কেরালায় খেলতে আসবে! ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
মেসিদের কেরালা সফরের পুরো বিষয়টিই নাকি ছিল ‘ভাঁওতাবাজি’। প্রায় ১২৬ কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গিয়েছে বর্তমান সরকারের ক্রীড়া বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে। ক্রীড়ামন্ত্রী ও জে জানিশকে দেওয়া রিপোর্টে দপ্তরের বিশেষ সচিব এন প্রশান্ত জানিয়েছেন, আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। ভিজিল্যান্স বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর সুপারিশ করেছেন তিনি।
আর্থিক গরমিলের অভিযোগ উঠেছে আর্জেন্টিনা দলকে ভারত সফরে আনার মূল উদ্যোক্তা রিপোর্টার ব্রডকাস্টিং কোম্পানির (আরবিসি) বিরুদ্ধে। সংস্থাটির দাবি, কেরালা সফরের জন্য আর্জেন্টিনা দলকে আগাম প্রায় ১২৬ কোটি রুপি দিতে হয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। টাকা পাঠানোর বা এএফএ’র প্রাপ্তি স্বীকারের কোনো নথি তদন্তকারীদের দিতে পারেনি আরবিসি। শুধু তাই নয়, মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের সফর সংক্রান্ত কোনও চুক্তিপত্র দেখাতে পারেনি তারা। আরবিসির সঙ্গে এএফএ’র বা আরবিসির সঙ্গে কেরালা সরকারের বা এএফএ’র সঙ্গে কেরালা সরকারের কোনও চুক্তিও হয়নি। সফর সংক্রান্ত কোনো পক্ষেরই প্রস্তাব বা সম্মতির নথি পাওয়া যায়নি প্রাথমিক তদন্তে।
আরবিসি কর্তৃপক্ষ আমেরিকার একটি সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিল সরকারের কাছে। অনুমতি পাওয়ার পরও আমেরিকার ওই সংস্থার মাধ্যমে এএফএকে টাকা পাঠানোর কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি আরবিসি কর্তৃপক্ষ। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমেরিকার ওই সংস্থাটির বিরুদ্ধে আমেরিকাতেই আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত চলছে। প্রশ্ন, তা হলে এমন একটি সংস্থাকে কেন বেছে নেওয়া হলো? বেসরকারি স্পন্সর নির্বাচন, প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা অনুমতি ছাড়াই কীভাবে করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি পদ্ধতি অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে আরবিসির বিরুদ্ধে। বিদেশে টাকা পাচারের পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে।
দলবল নিয়ে না এলেও কদিন আগে দুই সতীর্থকে নিয়ে ভারতে ঘুরে গেছেন লিওনেল মেসি।
প্রসঙ্গত, মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের সফরের প্রচার করে ভারতের রাজ্যটিতে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনা দলের কেরালায় ম্যাচ খেলার খবরটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু ক্রীড়া বিভাগের রিপোর্ট ইঙ্গিত করছে যে, এমন একটি আন্তর্জাতিক সফর আয়োজনের মতো কোনো আইনি বা শক্ত প্রমাণ আরবিসির হাতে ছিলই না। গোটা বিষয়টির রন্ধ্রে রন্ধ্রে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তদন্ত রিপোর্ট ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে।
প্রসঙ্গত, কেরালায় সদলবলে না আসলেও চলতি বছরেই ভারত সফরে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। কলকাতা ও মুম্বাইসহ বেশ কয়েকটি শহরে গিয়েছেন তিনি।

