বিশ্বকাপের শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি ব্রাজিলের। মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। আর সেই লক্ষ্যে একাদশে একাধিক পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ জানান, দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনতে কিছু পরিবর্তন আসছে। যদিও কোন কোন পজিশনে বদল হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
আনচেলত্তির ভাষায়, “আমরা কিছু পরিবর্তন করব। আমাদের খেলার মান আরও উন্নত করতে হবে। এই দল আরও ভালো ফুটবল খেলতে সক্ষম এবং সেটাই আমরা দেখতে চাই।”
ব্রাজিলের গণমাধ্যম ‘গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় আনচেলত্তি মজা করে বলেছেন দলে চার থেকে পাঁচটি পরিবর্তন আসতে পারে। পরে অবশ্য তিনি এটিকে নিছক রসিকতা বলেই উল্লেখ করেন।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে রাফিনিয়া, কাসেমিরোসহ বেশ কয়েকজন তারকা নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারেননি। ফলে তাঁদের জায়গা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কাউকে বিচারের পক্ষপাতী নন ব্রাজিল কোচ।
তিনি বলেন, “প্রথমার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার অনেক নিচে ছিল। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে খেলার চাপ হয়তো কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে যারা ভালো খেলতে পারেনি, তাদের আমি আরও সুযোগ দিতে চাই। কারণ সেদিন কেউই নিজের সেরাটা দিতে পারেনি।”
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিল সর্বশেষ নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল ১৯৩৪ সালে। দীর্ঘ ৯২ বছর ধরে উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজয়ের মুখ না দেখলেও এবার মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে শুরু করেছে তারা। অনেক বিশ্লেষক এই ফলকে হারের সমান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেছেন।
দলের খেলার ধরন নিয়ে সমর্থকদের উদ্বেগেরও জবাব দিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে আটকে না থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমি দলের কোনো একক পরিচয় চাই না। আমি চাই, আমার দল যেন সব পরিস্থিতিতে এবং সব ধরনের ফুটবল খেলতে পারে।”
উল্লেখ্য, ‘সি’ গ্রুপের ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়।

