ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের প্রোগ্রেস রকেট অ্যান্ড স্পেস সেন্টার, যা দেশটির মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের অন্যতম প্রধান স্থাপনা এবং সামরিক মহাকাশ ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান, এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত এফপি-৫ ফ্লেমিংগো ক্রুজ মিসাইল। সামরিক সূত্র বলছে, প্রোগ্রেস সেন্টারে উৎপাদিত রকেট এবং মহাকাশযানগুলো মূলত রুশ সামরিক নজরদারি ও যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। এই হামলায় ওই কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়।
মহাকাশ কেন্দ্র ছাড়াও নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের সাভাসলেইকা বিমান ঘাঁটিতেও অতিরিক্ত হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমান ঘাঁটিটি মিগ-৩১কে ফাইটার জেট পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হতো, যা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে কেএইচ-৪৭এম২ কিনঝাল হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়তে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়া এস্তোনিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত উস্ত-লুগার একটি তেল হাসপাতালেও হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক সক্ষমতা কমাতে এবং দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখতে এই দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভ বিশেষ করে রাশিয়ার ভেতরের জ্বালানি খাত, তেল শোধনাগার এবং ডিপোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ও দখলকৃত এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই বড় ধরনের হামলার জবাব দিতে বসে নেই মস্কোও। দেশটির বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ১৫২টি ড্রোন এবং ঘাতক অস্ত্র বা কামিকাজে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ১২৪টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও অন্তত ১৬টি ভিন্ন স্থানে বড় ধরনের আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ

