বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে এদেশের জনগণ কখনোই স্বৈরাচারের কাছে নতি স্বীকার করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও আস্থা সমুন্নত রেখেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের এক পরীক্ষিত বন্ধু। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক গন্তব্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বেগবান হবে।
বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনে এদেশের মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রপ্রিয় এবং তারা কখনো স্বৈরাচারী শাসনের কাছে নতি স্বীকার করেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি তাদের আস্থা ও শ্রদ্ধা সমুন্নত রেখেছে। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ফ্রান্সের বিখ্যাত দার্শনিক ও বিশিষ্ট নাগরিক আন্দ্রে মারলোর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধিদল দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং খনন কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ফরাসি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির তাগিদ দেন তারা। আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিনিধিদল ফ্রান্সের সিনেটের পক্ষ থেকে স্পিকারসহ বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে ফ্রান্স সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা, বাংলাদেশে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

