পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার (৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। পিজিসিবিকে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি কনসেপ্ট পেপার প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারে অভিজ্ঞ বিদেশি পরামর্শকদের মাধ্যমে সেটি মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আমরা কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের মতো বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছি। এখন আমরা পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে এগোচ্ছি। কিন্তু এর জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। অতীতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যথাযথ সমন্বয় না থাকলে সিস্টেম বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি জটিল ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম, পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

