খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র মাঠ। অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ এখানে হয়েছে, তবে এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দূরের কথা, জাতীয় পর্যায়ের কোনো ম্যাচও হচ্ছে না। একই চিত্র বরিশালের জীবনানন্দ ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও। ১৯৬০ সালে নির্মিত এই মাঠটি কখনো আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়নি।
এমনকি বরিশালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ আয়োজনও একসময় বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি সংস্কারের পর আবারও খেলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে খুলনা ও বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে ফের মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন টুর্নামেন্ট (বাংলাদেশ ফার্স্ট, সম্ভাব্য নাম) গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এই দুই ভেন্যুতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
এই টুর্নামেন্টের অন্তত গ্রুপ পর্বটি খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বরিশালের জীবনানন্দ দাস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে চায় বিসিবি। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হয়তো সিলেটের মাটিতে হতে পারে। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন আলমগীর ঢাকা পোস্টকে বললেন, ‘আমরা এমনটাই চিন্তা করছি। নতুন যে টুর্নামেন্টটি আসছে সেটির গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অন্তত এই দুটি স্টেডিয়ামে যেন করতে পারি। সেটা খুলনা ও বরিশালে করার পরিকল্পনা করছি। সেমিফাইনাল আর ফাইনাল নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অন্তত গ্রুপ পর্বটা ওই দুই মাঠে হতে পারে।’
কবে নাগাদ শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নে এই বিসিবি পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী আসরটি ডিসেম্বরের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারির শুরুতে হওয়ার একটা সম্ভাব্য তারিখ আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিবির খুলনার জেলা বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত জানালেন আগামী সপ্তাহে খুলনার মাঠ পরিদর্শনে যাবেন তারা। যত দ্রুত সম্ভব মাঠের কাজ এগিয়ে নিতে চান। দর্শকদের কথা চিন্তা করে আধুনিক মানের স্ট্যান্ডও বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।
খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছিল টাইগাররা। এরপর নিয়মিত জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ হলেও অন্য কোনো জাতীয় টুর্নামেন্টের ম্যাচও পায় না খুলনা। সবশেষ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব’১৯ ও দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব’১৯ দল ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল খুলনায়।
এরপর কেবল জাতীয় লিগের ৪ দিনের ম্যাচেই আটকে আছে খুলনা। খুলনা ভেন্যুর একজন কর্মকর্তা জানালেন, প্রকল্পের কাজ বিসিবি থেকে অনুমোদন হয়েছে। বিসিবির ইঞ্জিনিয়ার ও কনসালটেন্টরা এসে ভিজিট করে গেছেন। কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি।
অন্যদিকে বরিশালের স্টেডিয়ামটি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে পড়ে আছে। ২০২২ সালে এনএসসির উদ্যোগে স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। সংস্কার কাজ প্রায় শেষের দিকে। স্টেডিয়ামের কর্মকর্তারা আশা করছেন বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট দিয়েই খেলায় ফিরবে কীর্তনখোলা নদী পাড়ের স্টেডিয়ামটি।

