আলামিন আসিফ :নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর তা ১ শতাংশ বা তার নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত। কারণ, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে ভালো ঋণগ্রহীতা দেশ। তিনি আরও দাবি করেন, দেশটির অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগ আসছে।
ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য কমালে বিপুল রাজস্ব আয় করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশকে বহন করছে। এভাবে আর চলতে পারে না।
ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘বৈরী’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে ফেড এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তার সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফল খারাপ দেখায়।
ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সব সদস্য সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ফান্ডস রেট বেড়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। টানা পাঁচটি বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পর এবার তা বাড়ানো হলো।
সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর ডলারের দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। একই সময়ে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদও বাড়ে। এতে বাজারে ধারণা তৈরি হয়, ফেড ভবিষ্যতে আরও সুদের হার বাড়াতে পারে।
ডলারের সূচক ১০০ দশমিক ৩৩-এ উঠেছে। গত ৩১ জুলাইয়ের পর এটি ছিল সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।
ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদের হার বাড়ানোর কারণ হিসেবে মূল্যস্ফীতিকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা বেশি রয়েছে। তার মতে, সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত।
ট্রাম্প সুদের হার বাড়ানোর বিরোধিতা করলেও ওয়ার্শের প্রশংসা করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ওয়ার্শকে ফেডের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন ট্রাম্প। তবে এর আগে পাওয়েলকে সুদের হার দ্রুত কমাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নিয়মিত সমালোচনা করেছেন তিনি।

