সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনার মধ্যেই এক নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পরমাণুকেন্দ্রগুলোতে ‘অনন্তকাল’ ধরে সর্বোচ্চ স্তরের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে তাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নীতিগত কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরান সুদূর ভবিষ্যৎ তথা অনন্তকাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরের পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সম্মতি জানিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি পরমাণু ক্ষেত্রে সততা নিশ্চিত করবে এবং ইরান যদি এতে রাজি না হতো, তবে ভবিষ্যৎ আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যেত।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দাবি করেছিলেন, ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় আলোচনা একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তবে পরিদর্শকরা ঠিক কী ধরনের বা কতটুকু প্রবেশাধিকার পাবেন, তা ভ্যান্স স্পষ্ট করেননি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান মার্কিন দাবিকে একপ্রকার নাকচ করে দিয়ে জানায়, জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কেবল ‘বর্তমান নিয়ম ও প্রক্রিয়া’ অনুসারেই বজায় থাকবে।
দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মাঝেই ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার বহাল থাকবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে দেওয়া যেকোনো ধরনের আর্থিক ছাড়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত প্রযোজ্য হবে। এই মুক্ত হওয়া অর্থ দিয়ে ইরানকে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে হবে; যার মধ্যে আমেরিকার কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টা, গম এবং সয়াবিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বিষয়গুলোকে ইরানের জন্য অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে একটি মানবিক সংকট চলছে এবং অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই এখনই সাহায্য করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: সিএনএন

