যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির খবরের পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে। এখনো হরমুজ প্রণালীর উভয় পাশে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা বা অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি ইরানিদের কাছে একটি অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ ছিল। মনে রাখতে হবে, বছরের পর বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াকে এখানে একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানিরা এখন বলছে যে এই বিষয়ে তারা সাফল্য পেয়েছে। তেল রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল’ (OFAC)-এর পক্ষ থেকে একটি ওয়েভার বা ছাড়ের ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যা আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে, অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হওয়া তহবিল কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনও বিতর্ক রয়ে গেছে।
কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আজ ওমান এবং ইরানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে-তারা হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পুনরায় বাণিজ্য চালু করার প্রক্রিয়া বা মেকানিজম নিয়ে আলোচনা করছে। এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
তা সত্ত্বেও, এই প্রণালীটি পুনরায় খুলতে আসলে ঠিক কতদিন সময় লাগবে তা এখনও দেখার বিষয়; আর সেটি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজের উভয় পাশে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।

