দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইওএফ) একটি গাড়ি উল্টে এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত ওই সেনার বয়স ৩২ বছর এবং তিনি সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বুধবার লেবাননের ভূখণ্ডে একটি মাঠ পর্যায়ের অভিযানের সময় গাড়িটি উল্টে গেলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সীমান্তে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বজায় রয়েছে, তবে এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই কাফর তিবনিত এলাকায় সংঘর্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর আরও পাঁচ সেনা নিহত হয়েছিলেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে লেবাননের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার কথা থাকলেও গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বারবার বিমান হামলা, গোলবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব হামলায় মঙ্গলবার ও বুধবার চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে নাবাতিহ জেলার কাফর তিবনিত এলাকায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে বড় ধরনের সংঘর্ষে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর কয়েক জন সদস্য হতাহত হন। শনিবার আলী আল-তাহের পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হিজবুল্লাহর হামলায় এক সেনা নিহত এবং ১৩ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা ছিল গুরুতর। তার আগের দিন একই এলাকায় আরেকটি বড় অভিযানে ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডারের মৃত্যু হয়। সে সময় ট্যাংক ক্রুয়ের আরও তিন সদস্য প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, এই সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আল-মায়াদিন জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে বর্তমানে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। ওই সূত্রটি আরও দাবি করেছে যে, ইসরায়েলি নেতাদের কঠোর বক্তব্য আসলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহারের রূপরেখা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য সম্মত প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্রটি।
সূত্র: আল মায়াদিন

