দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরেছিল হাইতি। তবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে না পারলেও দলের লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট কোচ সেবাস্তিয়েঁ মিনিয়ে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পর এবার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চান না তিনি।
‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল, মরক্কো ও স্কটল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল হাইতি। তিন ম্যাচের একটিতেও জয় না পেলেও প্রতিটি ম্যাচেই লড়াই করেছে দলটি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারার পর শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে দুইবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা।
ম্যাচ শেষে মিনিয়ে বলেন, ফলাফল তাকে হতাশ করেছে, কারণ তিনি দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ, কারণ আমি আরও গোল এবং একটি জয় চেয়েছিলাম। তবে আমি মনে করি না ছেলেরা কোনো সময় হাল ছেড়ে দিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা লড়ে গেছে।’
হাইতির ফুটবলারদের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘লড়াই করে যাওয়াটা দেশটির সংস্কৃতিরই অংশ। হাইতির মানুষ সহজে হার মানে না। খেলোয়াড়রাও সেই মানসিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে গর্বের সঙ্গে।’
প্রথম দুই ম্যাচেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে হাইতি। মিনিয়ের বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে যে দলটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি যে এখানে খেলার যোগ্যতা আমাদের আছে। এখন লক্ষ্য হবে নিজেদের আরও উন্নত করা, যাতে পরবর্তী বিশ্বকাপ খেলতে আমাদের আর ৫২ বছর অপেক্ষা করতে না হয়।’
হাইতির কোচ মনে করেন, এই বিশ্বকাপ দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

