যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে জরিপ চালিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইসসোস। জরিপে প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে একজন ইরানে মার্কিন অভিযান সার্থক হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। এছাড়া বেশিরভাগ মানুষ আশঙ্কা করেছেন, তেহরানের সঙ্গে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। মঙ্গলবার (২৩ জুনের) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশটিতে পাঁচ দিনব্যাপী এ জরিপটি চালানো হয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার জনসমর্থন কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে এটি তার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা। এর আগে গত এপ্রিলেও তার জনপ্রিয়তা এই পর্যায়ে নেমেছিল।
জরিপ দেখা গেছে, মাত্র ২৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুদ্ধের আগের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের বিপক্ষে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এ ধারণা পোষণকারীদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক রিপাবলিকান। অন্যদিকে, দেশের অবস্থা আরও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করেন প্রায় ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা। বাকিদের ধারণা অবস্থা আগের মতোই আছে অথবা মন্তব্য করতে চাননি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বুধবার একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এ চুক্তির আওতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল ও গ্যাস চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমেছে। এরপরও অধিকাংশ আমেরিকানের কাছে পেট্রোলের দাম যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় অনেক বেশি রয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছিল। এ সময়ে যা বিশ্ব তেল বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল এবং মার্কিন আঞ্চলিক মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি করেছিল।
রয়টার্স ও ইপসোস জরিপ বলছে, মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ইরানের সাথে এই যুদ্ধ সার্থক ছিল। অর্ধেক অংশগ্রহণকারী বলছেন, এ যুদ্ধ মোটেও মোটেও সার্থক ছিল না। বাকিরা কোনো নির্দিষ্ট মত দেননি।
জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্পের এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা দেখছেন মাত্র ১৮ শতাংশ আমেরিকান।
ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুদ্রাস্ফীতি কমানো এবং আমেরিকাকে ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর ট্রাম্পের জনসমর্থন মাত্র ২২ শতাংশে নেমেছে। এটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শেষের দিকের রেটিংয়ের চাইতেও কমে এসেছে।
উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কারণেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। সর্বশেষ জরিপ বলছে, মাত্র ৩৭ শতাংশ আমেরিকান অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তার এই জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই জরিপটিতে সারা দেশের ১ হাজার ২৬২ জন মার্কিন নাগরিক অংশ নিয়েছেন। এসব জরিপে যুক্তরাষ্ট্রে ফলাফলে ভুলের মাত্রা ৩ শতাংশের মতো।
সূত্র: রয়টার্স

