১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ২৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ সাত বছর পর এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
শি জিনপিং’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার ও চীনা নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নয়াদিল্লির অভিজাত তাজ প্যালেস হোটেলে অবস্থান করছেন। তাঁর সফর উপলক্ষে হোটেলটির সব কক্ষ বুক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকাকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।
হোটেল প্রাঙ্গণ ও আশপাশে কোনো ধরনের পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয় বা জৈব রাসায়নিক হুমকি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। হোটেলের নিচের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।
সফরের প্রায় ১০ দিন আগেই চীন থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সি চিন পিংয়ের ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রীয় সাঁজোয়া গাড়ি হংছি লিমুজিন, একটি বিকল্প গাড়ি এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম নয়াদিল্লিতে আনা হয়।
বিশেষ বিমানেই ভারতে শি জিনপিং
শি জিনপিং এয়ার চায়না পরিচালিত বিশেষ বোয়িং ৭৪৭ ৮ বিমানে করে ভারত সফর করছেন। বিমানটি তাঁর মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করে।
বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ২০১৪ সালে যুক্ত হওয়ার পর বিমানটিকে আধুনিকায়ন করে ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
বিমানটিতে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি জিনপিং সরাসরি চীনা সরকার ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।
এ ছাড়া বিমানটিতে হুমকি শনাক্তকারী প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার প্রতিরোধব্যবস্থা এবং ক্ষতিকর তড়িৎচুম্বকীয় প্রভাব থেকে ভেতরের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি রক্ষার বিশেষ প্রলেপ রয়েছে।
১৫ হাজার পুলিশ ও ২০০ প্লাটুন আধাসামরিক বাহিনী
ব্রিকস সম্মেলন কেন্দ্র এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নয়াদিল্লিজুড়ে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং ২০০ প্লাটুনেরও বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শান্তিপথ পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
তুঘলক রোড থানায় স্থাপন করা হয়েছে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সেখান থেকে একসঙ্গে ৫০০টি ক্যামেরার সরাসরি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এভাবেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে ভারত।
সূত্র: এনডিটিভি

