হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল বা পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যান আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অভিযান চালিয়ে ওই মার্কিন সাবমার্সিবলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আটক করা যানটি একটি আধুনিক প্রযুক্তির মানববিহীন সাবমার্সিবল, যাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যানটির মডেল, আকার, পরিচালন পদ্ধতি কিংবা এটি কী ধরনের নজরদারি বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক করা যানটির ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে নিজেদের দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি বাহিনী।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান যে মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল আটক করেছে বলে দাবি করেছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রফতানির একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনও সামরিক তৎপরতা বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এই জলপথের প্রবেশমুখে মার্কিন কোনও মানববিহীন সামুদ্রিক যান আটক করার ইরানি দাবি সত্য হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মানববিহীন সাবমার্সিবল সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সামরিক বা প্রযুক্তিগত মিশনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইরান যে যানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটির নির্দিষ্ট সক্ষমতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বক্তব্য প্রচারিত হলেও ঘটনাটির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আটক করা যানটির ছবি বা অন্যান্য প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দাবিটির বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এমন দাবি এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

