দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ায় চরম আতঙ্কে দেশ ছাড়ছেন হাজার হাজার প্রবাসী। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের জন্য বিদেশি নাগরিকদের দায়ী করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের জেরে প্রবাসীদের বাড়িঘরে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মালাউই, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন।
জোহানেসবার্গের থেম্বেলিহলে এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে প্রবাসীদের লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ জুলাই রাতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে প্রবাসীদের মারধর করে টাকা, টেলিভিশন, ফ্রিজ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় আহত মালাউইর নাগরিক মুসা আদি কুঞ্জে জানান, হামলাকারীরা পিস্তল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার জন্য জমানো অর্থও ছিনিয়ে নেয়।
সহিংসতার মুখে হাজার হাজার মালাউই নাগরিক জোহানেসবার্গে নিজেদের কনস্যুলেটের বাইরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন। তীব্র শীতের মধ্যে নারী ও শিশুদের নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা পেতে বাধার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা মেডিসিন্স স্যান ফ্রন্টিয়ার্স এমএসএফ জানিয়েছে, মানসিক ও শারীরিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা অনেক অভিবাসী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারমন্ত্রী মামোলোকো কুবায়ি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, দেশে কোনো মানবিক সংকট নেই। আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের কেবল জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আলেকজান্দ্রা এলাকায় অভিবাসীবিরোধী মিছিল থেকে প্রকাশ্যে প্রবাসীদের বাসাবাড়িতে হামলা চালানো হলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ২৪ লাখ অভিবাসী বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
আগামী নভেম্বরের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসী ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ নামে একটি প্রচারাভিযান বলেছে, সব অবৈধ অভিবাসী দেশ না ছাড়া পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার তাদের আন্দোলন চলবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

