চলতি মাসের প্রথম দিনে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক এক বোর্ড পরিচালকসহ তিনজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জও গঠন করা হয়।
বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত তিনজন ছিলেন- বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াঁজো অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই তিনজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (প্রোভিশনাল সাসপেনশন) করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে উপযুক্ত জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তদন্ত কাজ কীভাবে করে তা আমি জানাচ্ছি। শুরুতে আমরা একটি ইস্যু গ্রহণ করি। ধরুন, কোনো ক্রিকেটার বললো যে, কেউ আমাকে বলেছে খারাপ খেলতে। এর বিনিময়ে তারা আমাকে টাকা দেবে। এটাই ফিক্স করার প্রথম ধাপ। ম্যানেজার, কোচ কিংবা সাংবাদিকদের কাছেও তথ্য থাকলে, তারা ইউনিটকে এটা জানায়। আইসিসিও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে কিছু দেখতে পেলে সেগুলোর তথ্য বিসিবির কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ব্যাপারে দায়িত্বশীল।’
মার্শাল নিজের কাজ সম্পর্কে বলেন, ‘আমার একটা ইউনিট আছে। আমার সঙ্গে বাংলাদেশি লোকজন আছে। সভাপতির কাছে আমি রিপোর্ট করি। আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপনীয়। কেউ এসে আমাকে কিছু বলতে পারে না যে, কীভাবে তদন্ত করতে হবে, কাকে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। তবে দিনশেষে তদন্ত শেষে জেনারেল কাউন্সিল সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে জানায় কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে কিনা।’
‘আমি চেয়েছি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে যেন ফিক্সিং এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিষ্কার করে জানাতে পারি। ফিক্সিং, অ্যান্টি করাপশন ইউনিট কোড এসবই আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে কাজ করছি।’

