ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ব্যাপক বিরোধীতার মুখে রয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিজের পদ ধরে রাখতে তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুনরায় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে পর্তুগাল এবং স্পেনকে পাশ কাটিয়ে মরক্কোকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইনফান্তিনো।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন উয়েফার ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার। তিনি বলেছেন, ফিফার পরবর্তী যেকোনো প্রেসিডেন্টের উচিত হবে বিশ্ব ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করার সক্ষমতা রাখা এবং এই খেলার একজন ‘অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
ইনফান্তিনোর সভাপতিত্বকালে সৃষ্ট সবচেয়ে বড় সংকটটির ইতি টানার জন্য ফিফা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সংস্থাটির নেতৃত্ব ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা বা পর্যবেক্ষণ চলছে, তা সম্ভবত থামবে না।
ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একজন যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে; কারণ যেকোনো প্রার্থীকেই কেবল ইউরোপ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুটবল সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পেতে হবে। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফার ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বিষয়টি যতটা সহজ মনে করা হয়, আসলে ততটা নয়। সঠিক প্রার্থীর পাশাপাশি তার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় সমর্থনও থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে প্রচুর রাজনীতি জড়িত। এমন একজন প্রার্থী পাওয়া অত্যন্ত জরুরি যিনি কেবল ইউরোপ নয়, বরং পুরো ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন।
ওয়েলসের নারী দলের সাবেক এই অধিনায়ক ফুটবলের নেতৃত্ব কাঠামোকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে পরিচালনা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, ফুটবলের নেতৃত্ব যেভাবে কাজ করে, সেই সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। খেলার আধুনিকায়নকে এগিয়ে নিতে হবে যাতে ফুটবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক আধিপত্যে বা ‘সামন্ততান্ত্রিক’ কায়দায় পরিচালিত না হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়।
ফুটবল অঙ্গনের ভেতর থেকেই তীব্র বিরোধিতার মুখে ইনফান্তিনো যখন একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন এবং ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করেন, ঠিক তখনই তার ওপর নজরদারি বা সমালোচনার মাত্রা বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটেই ম্যাকঅ্যালিস্টারের মন্তব্যগুলো সামনে এল।
মঙ্গলবার রয়টার্সকে ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেন, ফিফার নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন এলে তার সঙ্গে খেলার মূল আদর্শ বা মূল্যবোধে ফিরে আসাটাও জরুরি। তার মতে, রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিবর্তে ফুটবলের নিজস্ব স্বার্থেই খেলাটি পরিচালিত হওয়া উচিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় সবার জন্যই এই খেলা। এটি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের একক সম্পত্তি নয়। ছেলেদের মতোই মেয়েদের জন্যও এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে দরিদ্রতম দেশ থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে সফল দেশ সবখানেই এর প্রসার ঘটা উচিত।
এদিকে বুধবার রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপ বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছিল তার জন্য তারা সংস্থার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া সেই প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

