বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একাংশ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর বেকায়দায় রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্যাপক বিরোধীতার মুখে তার নেতৃত্বকে দুর্বল করার লক্ষ্যে একটি ‘সুপরিকল্পিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে তা অবশ্যই ফিফার নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে হতে হবে।
বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের একাংশ বিক্রির পরিকল্পনাটি উয়েফা, বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল সংস্থা এবং ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এর ফলে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি ওঠে এবং গত সপ্তাহে মরক্কোতে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব সভাপতির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
ইনফান্তিনোকে দুর্বল করার চেষ্টায় কারা জড়িত বা ঠিক কোন প্রতিবেদন বা অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, ফিফা তাদের বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে তা উল্লেখ করেনি। ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা এই বিবৃতি দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ইনফান্তিনোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এমন এক সাবেক কর্মীকে সংস্থাটি অর্থ প্রদান করেছিল।
ইনফান্তিনো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ফিফার পক্ষ থেকে তা ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে উয়েফা স্বীকার করে, সেই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘চাকরি ছাড়ার সময়কালীন অর্থ’ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ‘স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ কোর্সের ফি’ ও পরিশোধ করা হয়েছিল।
ফিফা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে সংস্থাটি ও এর সভাপতিকে নিয়ে ‘অপ্রমাণিত দাবি ও সুস্পষ্টভাবে মিথ্যা তথ্য’ তুলে ধরা হয়েছে। তারা আরও জানায়, ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তারা ‘সরাসরি ও জোরালোভাবে’ অবস্থান নেবে।
ফিফা আরও জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং শাসনকাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো প্রক্রিয়ায় তারা সহায়তা করবে না, তা সহজতর করবে না কিংবা মেনে নেবে না। সেই প্রক্রিয়া তাদের সভাপতির নির্বাচন সংক্রান্তই হোক না কেন।
সংস্থাটি বলেছে, ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমেই ফিফা সভাপতি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তাদের ম্যান্ডেট বা অনুমোদনের বলেই তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফিফা আরও বলেছে, যাদের ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন নেই, তাদের উচিত নয় এমন কিছু অর্জন করার চেষ্টা করা। তারা ফিফার প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করতে পারছে না।
ইনফান্তিনোকে ঘিরে ফিফায় বিভক্তি
মরক্কোতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো টুর্নামেন্ট বা ‘স্পিন-অফ’ আয়োজনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ভুল ব্যবস্থাপনার জন্য ফিফা তাদের ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই পরিস্থিতির জেরে মার্চ মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের প্রচেষ্টার ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া পড়েছে। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো স্পষ্ট প্রার্থী এখনো সামনে আসেনি।
উয়েফা জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আর আস্থা নেই। অন্যদিকে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিস ক্লাভনেস শুক্রবার তার পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ফিফা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তিনি আর ধরে রাখতে পারেননি।
তবে ফিফার ২১১টি সদস্যের মধ্যে ইনফান্তিনো এখনো উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল সর্বসম্মতিক্রমে তার নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল তাকে অপসারণের এমন যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যাতে ফিফার সকল সদস্যের ভোটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই।
মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে; যদিও তাদের আঞ্চলিক কনফেডারেশন কনকাকাফ তার সভাপতিত্বের বিষয়ে একটি সামগ্রিক পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছিল। দেশটির ফেডারেশন বলেছে, সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে আয়োজিত কোনো প্রক্রিয়াকেই এফএমএফ স্বীকৃতি দেবে না বা অনুমোদন করবে না।

