২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে পর্তুগাল। শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নেমেও ডিআর কঙ্গোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জোয়াও নেভেসের গোলে পর্তুগাল শুরুতে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধেই ইয়োনে উইসার গোলে সমতায় ফেরে আফ্রিকান পরাশক্তিরা। আর এই ড্রয়ের পর থেকেই পর্তুগিজ শিবিরের সমস্ত আলো ও সমালোচনা গিয়ে পড়েছে দলের খেই হারিয়ে ফেলা অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই আল-নাসর ফরোয়ার্ড পুরো ম্যাচে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি, উপরন্তু হাতছাড়া করেছেন দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ।
ম্যাচ শেষে রোনালদোর এমন পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার জে বোথরয়েড। স্কাই স্পোর্টসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, রোনালদো এখন আর দলের জন্য কোনো সম্পদ নন বরং এক প্রকার বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বোথরোয়েডের মতে, রোনালদো যদি সত্যিই দলের ভালো চান, তবে তার উচিত একাদশে শুরুর সুযোগ ত্যাগ করে বেঞ্চ থেকে এসে ‘ইমপ্যাক্ট সুপার-সাব’ হিসেবে ভূমিকা রাখা। তবে রোনালদোর অহমিকা তাকে কখনো এমন সিদ্ধান্ত নিতে দেবে না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, লিওনেল মেসির সাথে রোনালদোর চিরন্তন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে বোথরোয়েড বলেন, রোনালদোর পুরো মনোযোগ এখন কেবল নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের দিকে এবং তিনি সবসময় অন্ধের মতো মেসিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, রোনালদো কখনোই মেসি হতে পারবেন না। নিজের ক্যারিয়ারে তিনি যা অর্জন করেছেন তা অতুলনীয় হলেও বর্তমান সময়ে এসে পর্তুগালের দলীয় ভারসাম্যের জন্য তিনি বড় বাধা হয়ে উঠছেন। কোচ মার্তিনেজ রোনালদোকে বসানোর সাহস না দেখিয়ে মস্ত বড় ভুল করছেন বলেও মনে করেন এই ইংলিশ ফুটবলার।
অবশ্য বাইরের এমন তুমুল সমালোচনার মুখেও নিজের অধিনায়কের পাশেই শক্তভাবে দাঁড়াচ্ছেন পর্তুগাল বস রবার্তো মার্তিনেজ। কঙ্গোর বিরুদ্ধে রোনালদোকে পুরো সময় মাঠে রাখার সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত দাবি করে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, যখন দলের গোলের প্রয়োজন, তখন বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো মানেই হয় না।

