দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে আবারও গর্বের নাম হয়ে উঠলো ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ রাহাত সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর মুট কোর্ট সোসাইটির আয়োজিত ৪-দিনব্যাপী লিগ্যাল রিসার্চ ট্রেনিং স্কুল (সিজন-১)-এ স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মেধার বিকাশে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ যে ধারাবাহিক ভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে, মাহমুদ রাহাতের এই অর্জন তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন শিক্ষার্থী হয়েও জাতীয় পর্যায়ের একাডেমিক প্ল্যাটফর্মে স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর আইন বিভাগের চেয়ারম্যান, সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আমাদের মুট কোর্ট সোসাইটির আয়োজিত ৪-দিনব্যাপী লিগ্যাল রিসার্চ ট্রেনিং স্কুল এর এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে আইনের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করছি। আইনের শিক্ষার্থীদের কোর্টে প্র্যাকটিসের পূর্বেই বাস্তব অভিজ্ঞতার এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের তৈরি করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এসময় মাহমুদ রাহাত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আইনি গবেষণার মৌলিক বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। তিনি আইনি গবেষণার গুরুত্ব, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎসের পার্থক্য, এবং প্রবন্ধ ও স্মারকলিপি লেখার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী উদাহরণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
মাহমুদ রাহাত বলেন, “আইন শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা দক্ষতা এখন আর অতিরিক্ত কোনো যোগ্যতা নয়, বরং এটি অপরিহার্য। সঠিক পদ্ধতিতে গবেষণা করতে পারলে একজন শিক্ষার্থী শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনেও অনেক এগিয়ে থাকতে পারে, বিশেষ করে দেশের বাহিরে স্কলারশিপে পড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সেই ভিত্তিটাই শক্ত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস ল’ স্টাডিজ (BSHRLS) নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছি যেখানে নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।”
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, এই ধরনের মেধাবী ও উদ্যমী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। তাদেরকে বিভিন্ন একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্লাব ও গবেষণামূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, গবেষণা দক্ষতা ও বাস্তবমুখী জ্ঞান বৃদ্ধি করতে বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ভিসি, প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম মরতুজা বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর শিক্ষার্থীরা এভাবে জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখায় দেশের উচ্চশিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই অর্জন শুধু মাহমুদ রাহাতের নয়, বরং ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পরিবারের জন্যও এক গর্বের অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হলো।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য আমাদের শিখায় যে, একজন শিক্ষার্থীর জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনই ভবিষ্যৎ সফলতার মূল চাবিকাঠি। সুযোগকে কাজে লাগানো, নিজেকে নিয়মিত উন্নত করা এবং জ্ঞানকে সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করাই একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর পরিচয়।
