বগুড়ায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের পক্ষে মত দিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, একটি স্পোর্টস ভিলেজ বগুড়ায় হলে দোষটা কোথায়। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া শহরের মমইন হোটেল মিলনায়তনে ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে সরকার কাজ করছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বগুড়াসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহর এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলে এসব স্পোর্টস ভিলেজের কাজ শুরু হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলাতেই আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, এসব স্পোর্টস ভিলেজে ফুটবল, ক্রিকেট, আর্চারি, সাঁতার, শুটিংসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে।
প্রাক্তন খেলোয়াড়দের ভাতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কৃতী ও সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়মিত ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৩০০ জন খেলোয়াড় এ ভাতা পাচ্ছেন। শিগগিরই আরও ২০০ জনকে এর আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হোক। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
নতুন খেলোয়াড় তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সফল ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট এক হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ব্যাচে ২৫ জন অংশগ্রহণ করবেন। দুই মাস মেয়াদি প্রতিটি কোর্সে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয়কারী আটজন ফ্রিল্যান্সারের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার ২৪ জন ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

