দুই দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি। পরে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাষ্ট্রপতি।
প্রটোকল কর্মকর্তার নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই নিজ জেলা থেকে বিদায় নেন তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম সরকারি সফর।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। পরে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
সফরের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে তাঁর মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে যান। সেখানে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও কিছু সময় বিশ্রাম নেন তিনি।
বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁকে একনজর দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন অনেকে।
গণসংবর্ধনায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাষ্ট্রপতিও ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। রাতে নিজ বাসভবনেই অবস্থান করেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিন সোমবার সকালে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাযথভাবে গড়ে তোলা এবং এর উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আবেগের কথাও উঠে আসে।।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দুপুরের দিকে নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, জেলা সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান, রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবন, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকায় বাড়ানো হয় নজরদারি।
দুই দিনের সফর ঘিরে পুরো ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শহরে আসেন। বিশেষ করে গণসংবর্ধনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
এর আগে, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

