হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তবে সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। এরপর যতবারই করা হোক না কেন, তা নফল হিসেবে গণ্য হয়।
ফরজ ও নফল হজের মধ্যে পার্থক্য
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একজন সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে কেউ যদি এরপরও বারবার হজ পালন করেন, তাকে নফল হজ বলা হয়।
মূল পার্থক্য শুধু নিয়তে
ফরজ হজ এবং নফল হজের মধ্যে বাহ্যিক বা পদ্ধতিগত কোনো পার্থক্য নেই। মূল পার্থক্য শুধু নিয়ত বা সংকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি ফরজ হজ পালন করেন, তখন তাকে মনে মনে ফরজ হিসেবে আদায়ের নিয়ত করতে হয়। অন্যদিকে, নফল হজের ক্ষেত্রে সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে নফল হিসেবে হজের নিয়ত করতে হয়।
ফরজ ও নফল হজ পালনের নিয়ম
হজের প্রধান রোকন বা স্তম্ভগুলোর ক্ষেত্রে ফরজ ও নফলের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে আরাফার ময়দানে অবস্থান, কাবা শরীফ তাওয়াফ করা এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করা—সবই উভয় হজের ক্ষেত্রে একইভাবে পালন করতে হয়। যেভাবে একজন হাজি তার ফরজ হজ সম্পন্ন করেন, ঠিক একই নিয়মে নফল হজও সম্পন্ন করতে হয়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, ফরজ ও নফল হজের মধ্যে কার্যাবলি বা আমলের দিক থেকে কোনো ব্যবধান নেই। হজের সব নিয়মকানুন দুই ক্ষেত্রেই সমান। শুধুমাত্র ইহরাম বাঁধার সময় মনের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় যে তা ফরজ নাকি নফল।

