প্রাণনাশের হুমকির মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেট’ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তারা জানায়, ইয়াইর ওপর হামলার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে এবং তার নিরাপত্তা দলকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিয়ে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংস্থাটি হুমকির উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ‘নিউজম্যাক্স’ জানিয়েছিল, গত ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে ইয়াইর নেতানিয়াহু ইরানের একটি কথিত গুপ্তহত্যা পরিকল্পনার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। নিউজম্যাক্স যুক্তরাষ্ট্রের একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, কথিত এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানার পর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তারা আমার এক ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। এমন মন্তব্যের পরই এই প্রতিবেদনটি সামনে আসে।
নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা দলের সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকা ইয়াইর নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাড়াই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সরাসরি ইসরায়েলে ফিরে যান।
নেতানিয়াহুর বড় ছেলে বেশ কয়েক বছর ধরে ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন। ‘দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং রাষ্ট্রীয় খরচে পাওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইসরায়েলে বারবার জনদৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পরও তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অনেক ইসরায়েলি নাগরিকের সমালোচনার জন্ম দেয়।
ইসরায়েলি সংবাদপত্রটির তথ্যমতে, লাখ লাখ ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনাকে যখন তলব করা হয়েছিল, তখন নেতানিয়াহুর ছেলের বিদেশে অবস্থান নিয়ে অনেকেই ‘দ্বিমুখী আচরণের’ প্রশ্ন তুলেছিলেন। ডানপন্থী কর্মী ও পডকাস্টার হিসেবে পরিচিত ইয়াইর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়।
তিনি প্রায়ই ইসরায়েলি রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং তার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সরকারের সমালোচক ও সাংবাদিকদের তীব্র আক্রমণ করে কথা বলেন।
সূত্র: আলজাজিরা।

