কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক ও ব্যয়বহুল বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান আব্দুল খালিক জানান, কৌশলগত দিক থেকে এই নৌপথের পরিচালন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ঝুঁকি এড়াতে এখন এক ট্যাংকার থেকে অন্য ট্যাংকারে তেল স্থানান্তরের (ট্যাংকার-টু-ট্যাংকার ট্রান্সফার) ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বেড়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনার পর এই রুটে নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকি বজায় রয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আব্দুল খালিক বলেন, ‘বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থার অধীনে প্রণালিটি সচল রাখা হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরে অবস্থান করার মূল কারণ বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া, পরিশোধিত জ্বালানির তীব্র সংকট, চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল জাহাজ পরিবহন এবং বিকল্প নৌপথের সীমাবদ্ধতা। যেকোনো মুহূর্তে এই সরবরাহ ব্যবস্থা আবারও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে, আন্তর্জাতিক পণ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির প্রায় ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত শুরুর আগের পরিমাণের তুলনায় বর্তমানে দৈনিক ৩.২ মিলিয়ন (৩২ লাখ) ব্যারেল কম তেল রপ্তানি হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হতো।
সূত্র: আল-জাজিরা।

