বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেরই শিক্ষার অধিকার রয়েছে। শিক্ষার সুযোগকে অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলে প্রতিভা অন্বেষণ ও উপযুক্ত সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ করা যাবে।
রোববার রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিএএফ শাহীন কলেজে বিজ্ঞান মেলার শিক্ষার্থীদের স্টল পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” অর্থাৎ আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুললে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হবে এবং তারা ভবিষ্যতে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি তার বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকার বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইন্দুরকানি পিরোজপুরের ৫৪ নং সাউথ বিদ্যালয়ের জীর্ণ দেয়ালে লেখা একটি বাক্য—“মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না, হয় সে জিতবে না হলে সে শিখবে”—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর আইকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার গড়চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরেন।
তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ থামায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দেশের গর্ব করার মতো বিজ্ঞানী ও মেধাবী নাগরিক তৈরি হবে।
ঢাকা জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যেসব প্রজেক্ট তৈরি করেছে তা অত্যন্ত সুন্দর ও সময়োপযোগী।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এসব শিক্ষার্থীর সাফল্য দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

