পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ছোট ছোট ভালো কাজ করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সানিডেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগের অংশ হিসেবে আজ সংসদে আসেন রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সানিডেলের শিক্ষার্থীরা।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে আসরের নামাজের বিরতির সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের পড়াশোনা এবং স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একইসঙ্গে পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের করণীয় নিয়েও কথা বলেন।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশের পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ করতে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এই উদ্যোগে তোমাদেরও অংশগ্রহণ করা উচিৎ। পরিবেশ ঠিক রাখতে তোমাদের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি তোমাদের আত্মীয় স্বজনদের বাসার আশপাশেও গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেকোন বিশেষ আয়োজন; সেটা তোমাদের জন্মদিন কিংবা অন্য কোনো বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে একে অন্যকে গাছ উপহার দিতে পারো। এভাবে গাছ উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
বিদেশের পরিচ্ছন্ন পরিবেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “তোমাদের মধ্যে যারা বিদেশে গেছ, তারা নিশ্চয়ই দেখেছ সেখানকার পরিবেশ কতটা পরিচ্ছন্ন। আমাদের দেশকেও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে তোমরাও সহযোগিতা করবে। যদি দেখ তোমাদের বন্ধু বা স্বজনদের কেউ পরিবেশ নোংরা করছে বা রাস্তায় ময়লা আবর্জনা ফেলছে, তখন তাদের বারণ করবে।”
লন্ডনে বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেদেশের পরিবেশ সেখানকার নাগরিকরাই পরিচ্ছন্ন রাখে। আমরা নিজেরা যদি নিজেদের বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখি, তাহলে পুরো দেশকেই পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। পরিবর্তন নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তোমাদের নিজেদের বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা ছোট ছোট এমন কিছু কাজ করব, যেগুলো সমাজ ও দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। তোমরাও এসব কাজে অংশ নেবে এবং একটি সুন্দর দেশ গড়তে সহযোগিতা করবে।”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
আগামীর নেতৃত্ব গড়তে তরুণদের উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পেতে সংসদ অধিবেশনে প্রত্যক্ষ করার অংশ হিসেবে আজ আসে রাজধানীর সানিডেল স্কুলের ১২৪ জন শিক্ষার্থী। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ১৪ জন শিক্ষকও।

