বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেখান কী শিক্ষা? কী স্বাস্থ্য? প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী যে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলো তিনি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি ভঙ্গুর স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার তথা জোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চারিদিকে ছিল অরাজকতা, নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ। কে কখন গুম হয়ে যাবে। কে কখন অদৃশ্য হবে তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না। বিচার বহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল এবং প্রত্যেকটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, কেউ খালের ধারে, কেউ নদীর ধারে, কেউ পুকুরের ধারে, প্রতিদিন একটার পর একটা লাশ পাওয়া যেত। সেটা উপজেলা চেয়ারম্যানের হতে পারে, সেটা সাবেক সংসদ সদস্যের হতে পারে, সেটা কোনো ছাত্রনেতার হতে পারে, সেটা কোনো যুবনেতার হতে পারে যারা গত সরকারের রাজনৈতিক মতামতের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত দিত। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই নৈরাজ্যের এক ঘন অন্ধকারের মধ্যে এক বিপুল তরঙ্গের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমরা পেলাম ৫ আগস্ট এবং একটি পরিবর্তন। কিন্তু যে লিগ্যাসি, যেটার যে ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ছিল, সেটা তো রাতারাতি নির্মাণ এবং পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, উড়ে গেল এবং সেটা উড়ে বেড়ালো কোথায়? ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। ক্যাসিনোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। অর্থনীতির এক কঠিন অবস্থায় লোক দেখানো কিছু মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা মেগা দুর্নীতির রূপকথার সমস্ত গল্প আমরা সে সময় শুনে এসেছি। যেটা অত্যন্ত অবাস্তব এবং অত্যন্ত অসত্য সেই পরিস্থিতি, সেই লিগ্যাসির ধারা থেকে আজকে নতুন একটি সরকার, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে, ইনক্লুসিভ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, যে অঙ্গীকারগুলো করেছিলেন। সরকার প্রধান তারেক রহমান সেই প্রতিস্থিতিগুলি পূরণে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় প্রথম দিন থেকেই কাজ শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড বলুন, কৃষক কার্ড বলুন, খাল খনন বলুন, বৃক্ষরোপণ বলুন, নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলোর কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, দিন রাত নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমতি রাখেননি। এর মধ্যে বিভিন্ন ডিজাস্টার, দুর্যোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ আমাদের উন্নয়নের গতিকে অনেকটা বাধাগ্রস্ত করেছে। কিন্তু সে বাধা থাকার পরও সেটাকে অতিক্রম করে এই সরকার জনগণের স্বস্তির জন্য এবং জনগণের কল্যাণের জন্য তার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, হুমায়ূন কবির, জাহিদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

