সামর্থ্যবান নারী ও পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। হজের বিধান নারী-পুরুষ সবার জন্য ফরজ। হজ ফরজের জন্য প্রাধানত পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এই শর্তগুলো কারো মাঝে পাওয়া গেলে তার জন্য হজ ফরজ। শর্তগুলো হলো— ১. মুসলমান হওয়া। ২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া। ৩. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। ৪. স্বাধীন হওয়া। ৫. সামর্থ্য থাকা।
এই শর্তগুলোর সঙ্গে নারীর জন্য অতিরিক্ত একটি শর্ত হলো, মাহরাম থাকা। মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজের সফরে যাওয়া শরীয়ত সম্মত নয়। মাহরাম ছাড়া নারীদের জন্য হজের সফর করা জায়েজ নয়। কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর যদি তার কোনো মাহরাম না থাকে তাহলে তার জন্য হজের সফরে যাওয়া জায়েজ হবে না। তবে যদি তার যদি হজের বিধান পালনের খুব ইচ্ছা থাকে তাহলে তিনি বদলী হজ করাতে পারেন।
হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে কারীম (সা.) বলেছেন, যে নারী আল্লাহ এবং আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার জন্য নিজের বাবা, ছেলে, স্বামী, ভাই বা অন্য কোনো মাহরামকে সঙ্গে না নিয়ে তিন দিন বা ততোধিক দূরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়। (মুসলিম, হাদিস : ৪২৩)
আরেক হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) নবী কারীম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবীজি বলেছেন, কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে তার মাহরাম ছাড়া একাকী অবস্থান না করে। তখন এক ব্যক্তি উঠে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য নাম লিখিয়েছি। ওদিকে আমার স্ত্রী হজ্বের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে। নবীজি বললেন, ফিরে যাও। তোমার স্ত্রীর সাথে হজ কর। (বুখারি, হাদিস : ৫২৩৩)
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, মাহরামকে সঙ্গে না নিয়ে কোনো নারী তিন দিন দূরত্বের পথে সফর করবে না। (বুখারি, হাদিস : ১০৮৬)

