২০১৮ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত বহুল আলোচিত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।
ডা. প্রিয়াঙ্কা গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শেরপুর-১ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা এবং দলীয় বিভাজনের কারণে তিনি জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। তবে দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে দুই নির্বাচনে তার প্রচারণা ও বক্তব্য দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় তিনি তৎকালীন সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার গাড়িবহরে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে প্রচার করলে তা দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি তৎকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, শেরপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে জামায়াত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ডা. প্রিয়াঙ্কা শেরপুরের শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, শ্রমিকদের কর্মস্থল, কৃষকের মাঠ থেকে শুরু করে শিশুদের খেলার মাঠ পর্যন্ত ব্যাপক গণসংযোগ চালান। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তার ব্যতিক্রমী প্রচারণা তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি থেমে থাকেননি। সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের লক্ষ্যে ঢাকায় গিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
অবশেষে সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষণায় তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ২০১৮ সালে তার বাবা, তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকায় তার পরিবর্তে দলীয় মনোনয়ন পান। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন।

