ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ ও রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিস্তৃত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি। গত মাসে একটি বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড অ্যাম জোনটাগ।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট সংবাদপত্রটিকে বলেন, রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা এখন দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। এসব হামলা আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তবে তার দাবি, জার্মানি নিজেদের রক্ষা ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
রাশিয়া পশ্চিম ইউরোপে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে। জার্মান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। বরং এ ধরনের অভিযোগকে রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিল্ড জানিয়েছে, পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোবাইল ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র ও সরকারি এলাকার আকাশসীমা সুরক্ষায় বিভিন্ন শহরে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য কাউন্টার-ড্রোন ইউনিট রাখা হবে। এসব ইউনিট প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ড্রোন শনাক্ত নয়, সেগুলো প্রতিহত করার আইনগত ক্ষমতাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে, যাকে সাইবারডোম নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এর আওতায় ডিজিটাল সেন্সরের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে, যা সম্ভাব্য সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করতে কাজ করবে।
এ ছাড়া নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক মুখ শনাক্তকরণ এবং ভিডিও নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স

