এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেন। প্রতিটি পজিশনে পর্যাপ্ত ফুটবলার এবং শক্তিমত্তায় তাদের পক্ষে বাজি ধরছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আগামী ১৫ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে নামার আগে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার রদ্রিগো হার্নান্দেজ। যেখানে তিনি নিজের পাওয়া ব্যালন ডি’অরের বদলে হলেও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের আশা প্রকাশ করেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘কাদেনা সার’-এর সাক্ষাৎকারে রদ্রিকে জিজ্ঞেস করা হয়, রিয়াল মাদ্রিদের নির্বাচনে পরাজিত সভাপতি প্রার্থী এনরিকে রিকেলমের দাবি সম্পর্কে। যেখানে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের এই প্রতিপক্ষ প্রার্থী জানান, আগামী মৌসুমে রদ্রিকে দলে নেওয়ার জন্য নাকি ইতোমধ্যেই চুক্তি হয়ে গেছে। এ নিয়ে স্প্যানিশ তারকা বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি বিষয়টি থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করছি। এটা ঠিক যে কিছু খবর সামনে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি জানি না সেগুলো কোথা থেকে আসছে। এখন আমার মনোযোগ শুধু নিজের কাজের দিকে।’
পুরো সময়টা বিশ্বকাপে মনোনিবেশ করতে চান বলেও জানান ম্যানচেস্টার সিটির এই ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, ‘আমি বুঝি এটা (রিয়ালের গুঞ্জন) খেলারই অংশ। আমাদের নাম যখন কোথাও আসে, তখন আমরা সেটাকে সেভাবেই গ্রহণ করি। কিন্তু আমি এ নিয়ে ভাবিনি এবং কোনো সিদ্ধান্তও নিচ্ছি না। আমার মনোযোগ বিশ্বকাপে। আমার ক্লাবের (সিটি) সঙ্গে এখনও চুক্তি আছে। সেখানে আমার মনে হয় ভালো একটি মৌসুম কেটেছে। এখন আমার পরিস্থিতি এটাই।’
২০২৪ সালের বিশ্বফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রদ্রি। ব্যালন ডি’অর নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, স্পেনের হয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের বিনিময়ে তিনি কি এই পুরস্কার ছেড়ে দিতে রাজি? জবাবে রদ্রি জানান, ‘নিঃসন্দেহে আমি ব্যালন ডি’অর ছেড়ে দেব (জার্সিতে) দ্বিতীয় তারকার জন্য। আমার কাছে দেশের হয়ে জেতার চেয়ে বিশেষ কিছু নেই।’
‘ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আমার জেতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা। আর বিশ্বকাপ হলো এমন এক অর্জন, যার স্বপ্ন প্রত্যেক খেলোয়াড় দেখে। আমরা খেলোয়াড়রা এর জন্যই খেলি’, আরও যোগ করেন এই তারকা। পাশাপাশি বিশ্বকাপে স্পেনের নেতৃত্ববার পাওয়া নিয়ে রদ্রি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি তোলার কথা আমি এখনও ভাবিনি, কারণ পথ অনেক লম্বা। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে।’
বিশ্বকাপে কোন প্রতিপক্ষ তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে– এমন প্রশ্নের জবাবে রদ্রি বলেন, ‘আমি দুই বা তিনটি দলের কথা বলছি না। আমি পাঁচ-ছয়টি দলের কথা বলছি, যারা বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম। ফুটবল অনেকটাই মুহূর্তের ওপর নির্ভর করে। প্রথম ম্যাচগুলো দেখা যাক। এবার বিশ্বকাপও দীর্ঘ সময়ের হবে, তাই চমক আসতে পারে। আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি ভাবার মতো এবং সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, তাদের দল ও গ্রুপের কারণে। তবে সব দলই কঠিন।’
এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনের অনুশীলনের একটি ভিডিও আলোচনায় আসে, যেখানে গাভির একটি ট্যাকলে রদ্রিকে কিছুক্ষণ খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। এ ছাড়া রাগান্বিতও দেখা যায় তাকে, যা নিয়ে রদ্রি বলেন, ‘আমরা জানি গাভি আবেগপ্রবণ, কিন্তু সে খেলার প্রতি মনোযোগী। তার কোনো ফিল্টার নেই, সে কিছু নিয়ে চিন্তা করে না। আমরা তার ব্যক্তিত্ব খুব পছন্দ করি। তবে আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে ম্যাচের চেয়ে অনুশীলন কম তীব্র হওয়া উচিত। সত্যি বলতে আমি জানতাম না যে আমাকে রেকর্ড করা হচ্ছিল। যেখানে আমি খুব রেগে ছিলাম।’

