যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমান আয়ারল্যান্ডের আকাশসীমায় আকস্মিক জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে দ্রুত গতিতে নিচে নেমে এসেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এই ঘটনায় বিমানটি দিক পরিবর্তন করে পুনরায় লন্ডনে ফিরে গেছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বিএ২৯৫ নামের ওই বিমানটি সংকটকালীন মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সিগন্যাল কোড ‘স্কোয়াক ৭৭০০’ বার্তা পাঠিয়েছিল। এই বার্তাকে আকাশে থাকাকালীন বিমানে তৈরি হওয়া বড় ধরনের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির সঙ্কেত হিসেবে ধরা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা যায়, আয়ারল্যান্ডের ওপর দিয়ে উড়ার সময় বিমানটি মাত্রাতিরিক্ত উচ্চতা থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ২৮ ফুট নিচে নেমেছে বিমানটি।
বিমানে হঠাৎ এই জরুরি পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও জানায়নি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ। তবে এভিয়েশন প্রোটোকল অনুযায়ী, ১০ হাজার ফুটের নিচে এ ধরনের দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত জরুরি অবতরণ সাধারণত কেবিনের ভেতরে বায়ুচাপ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার কারণে করা হয়ে থাকে।
উড্ডয়ন পরিভাষায় স্কোয়াক’ হলো একটি ৪ ডিজিটের বিশেষ কোড; যা বিমানের ট্রান্সপন্ডার সিগন্যালের মাধ্যমে সরাসরি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) পাঠানো হয়। এই কোড ৭৭০০ দিয়ে বোঝানো হয় বিমানে সাধারণ বা বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এটি সমস্যার সুনির্দিষ্ট ধরণ পরিষ্কার না করলেও বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক সতর্ক করে দেয়, ওই বিমানের ক্রুদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং তাদের জন্য আকাশপথ ফাঁকা রাখা জরুরি।
মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটে যাওয়া তোলপাড় করা এক রোমহর্ষক ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এই জরুরি পরিস্থিতির খবর এলো। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি জরুরি কোড সম্প্রচার করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমানটি মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময়ে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে এসেছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, বিমানে থাকা ওমানের নাগরিক কো-পাইলট হঠাৎ ককপিটের জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য থাকা বিশেষ কুড়াল দিয়ে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা চালান এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জীবনপণ লড়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সহায়তায় সেই হামলাকারীকে কাবু করা হয়। পরবর্তীতে এই বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই পাইলটকে বীর হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শিশুসহ ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে সেই বোয়িং ৭৩৭-৮ বিমানটিকে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিন আবদেল আজিজ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করা হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি।

