ডাগআউট আর ড্রেসিংরুমে হোসে মরিনহোর জীবন কেমন, তা হয়তো সবারই জানা। ২৫ বছর ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবল চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। বেনফিকা, পোর্তো, চেলসি, ম্যানইউ, রোমা ও ইন্টার মিলান ঘুরে দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হয়েছেন তিনি। খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যস্ততার মাঝে কি পরিবারকে সময় দিতে পারেন এই পর্তুগিজ? অনেকের মনে ওঠা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অকপটে কিছু চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।
মরিনহো স্বীকার করেছেন, তার পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেন না। তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাতে যেন আরও খুশি। পর্তুগিজ কোচ জানালেন, তিনি তাদের সঙ্গে না থাকলেই সময়টা বেশি উপভোগ করেন! ছোটবেলার বান্ধবী মাতিলদে ‘তামি’ ফারিয়ার সঙ্গে শুভ পরিণয় হয়েছে মরিনহোর। দুজনের সম্পর্ক ৩৫ বছরেরও বেশি সময়ের। তাদের ঘরে আছে দুই সন্তান, ৩০ বছর বয়সী মাতিলদে ও ২৬ বছরের হোসে মারিও জুনিয়র।
ম্যানচেস্টারে থাকাকালে মরিনহো লউরি হোটেলে একাই থাকতেন। তার সন্তানরা বেড়ে ওঠার সময়ে থাকতেন পশ্চিম লন্ডনের পারিবারিক বাসায়। ৬৩ বছর বয়সী মরিনহো নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্মের একটি নতুন ডকুমেন্টারিতে পারিবারিক জীবন নিয়ে কথা বলেন।
মরিনহো বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনার মনে হতে পারে যে আমার সেখানে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু আমি সেখানে নেই। তবে আমি চাই না আপনি ভাবুন যে পরিবার আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু। তারা এমন এক জায়গায় আছে যার সাথে ফুটবলের কোনো তুলনাই হতে পারে না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে সত্যি বলতে, আমি জানি আমাকে ছাড়া তারা জীবনটা অনেক বেশি উপভোগ করে। এটাই বাস্তবতা। এটাই সত্য। তারা যদি আমাকে নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁয় যায়, তবে তা আমাকে ছাড়া যাওয়ার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি দেয়।’
কোচ হিসেবে সাফল্যের কৃতিত্ব প্রায় সময় তামিকে দেন মরিনহো। তিনি বললেন, ‘আমি যতটা সম্ভব তাদের সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু অবশ্যই আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। এটা সহজ নয়।’ আও যোগ করলেন, ‘তামি একজন অসাধারণ মা। তারা বোঝে যে আমি ফুটবলে যা, তা আমার জীবনের অংশ। তাদেরকে এটা বুঝতে হবে। আপনারা আমাকে নিজেকে নিয়ে কথা বলতে জোর করবেন, কিন্তু আমি এটা চাই না।’
তার আরও কথা, ‘আমি মনে করি আপনার খুশি, কষ্ট এবং সমস্যাগুলো অনুশীলন মাঠেই ছেড়ে আসবেন। হয়তো এটা বিষয়গুলোকে দেখার একটি সেকেলে ব্যাপার, কিন্তু আমি এমনই। আমি বদলাতে চাই না, অনেক দেরি হয়ে গেছে।’

