তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গত সপ্তাহে বড় ধরনের রদবদল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই রদবদলের মাত্র এক সপ্তাহ পরেই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই সংসদ সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, যাদবপুরের সংসদ সদস্য সায়নী ঘোষকে যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় যুবনেতা অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দলটি এক চরম অস্তিত্বের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র বলছে, দক্ষিণ কলকাতার সংসদ সদস্য মালা রায়কেও তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নদীয়া জেলার কালীগঞ্জের তৃণমূল সংসদ সদস্য আলিফা আহমেদ তার জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। দলটির সংসদ সদস্যদের অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সোমবার তারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সাথে দেখা করবেন। চিঠিতে তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাবেন। সরিয়ে দেওয়া দুই এমপিকেও তাদের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রবীণ সংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও শনিবার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। বিদ্রোহীদের দাবি, সায়নী ঘোষ ও মালা রায়সহ লোকসভার ২৮ জন সদস্যের মধ্যে ২০ জনই ইতোমধ্যে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। স্পিকারের স্বীকৃতি পাওয়ার পর তাদের এই গোষ্ঠী সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে স্বাগত জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্রোহী সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
এর আগে দলের মধ্যে বিদ্রোহের পর গত ৫ জুন সব কমিটি ও ফ্রন্ট ভেঙে দেন মমতা। এরপর তিনি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি নতুন কমিটিতে অনুগত ও প্রবীণ নেতাদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। কমিটিতে তার ভাইপো ও ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ সদস্য বলেন, তিন দিন আগেই এক দলীয় বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিদ্রোহীদের বিষয়ে তিনি বলেন, দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছিলেন মমতা।
সূত্র: এনডিটিভি

