প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করে এবং অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। আর বাংলাদেশের জনগণ সেই আন্দোলনে সফল হয়েছে।
শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এখন জনগণের শাসন, কথা বলা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ দেশকে গড়ে তুলা। রাষ্ট্রকে পুনঃগঠন করতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছর এদেশের মানুষের লাখো কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছিল এবং সম্পদ পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিগত সরকারের সময়ে দেখেছি দেশের প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করে তাদের দক্ষতা নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। অন্য দেশের চিকিৎসা সেবার সুবিধার জন্য দেশের চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে। গ্রামে উন্নয়ন হয়নি এবং শহরে গিয়ে দেখবেন কতগুলো ফ্লাইওভার হয়েছে। কিন্তু রাস্তাঘাট ভাঙা।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যারা কাজ করবে তাদের জন্য বালিশ কেনা হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। একটি বালিশের দাম কখনো আশি হাজার টাকা হতে পারে? জনগণের এই টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বক্তব্যে বলেছেন এখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার জন্য। যদি উন্নয়নই হয়ে থাকে তাহলে কেন গত এক যুগে টেকনিক্যাল কলেজ হলো না। এখানে টেকনিক্যাল কলেজ হলে এই এলাকার যুবকরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে। তারা প্রশিক্ষণ নিলে দেশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থান হবে।
তিনি বলেন, আজকে আমরা যেই বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছি। এটি বিগত এক যুগের অধিক সময় কেন সংস্কার হলো না। এটি খনন হলে এই এলাকার মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবে। কারণ গ্রামে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি এবং প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারমান আশিক চৌধুরী সহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

