ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি এক বন্দির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে তার পরিবার। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কারাগারে মারা গেছেন ৪৭ বছর বয়সী ইমাদ রাজিহ সারহান।
ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক কমিশন এবং ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, সারহান ২০০১ সাল থেকে গিলবোয়া কারাগারে বন্দি ছিলেন। হাইফার বাসিন্দা এই ফিলিস্তিনি আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
সংগঠন দুটির দাবি, কারাবন্দি জীবনের শুরুর দিকে সারহানকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। এ সময় তার ওপর ‘পদ্ধতিগত নির্যাতন’ চালানো হয়েছিল, যার ফলে তার শরীরে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি তাকে একাধিকবার দীর্ঘ সময়ের জন্য একাকী সেলে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর ভাষ্য, বছরের পর বছর আটকাবস্থা, নির্যাতন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে সারহান দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগ, ধমনি-সংক্রান্ত জটিলতা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হতো।
বন্দিবিষয়ক সংগঠন দুটি সারহানের মৃত্যুকে ইসরাইলি কারাগারগুলোতে ‘চিকিৎসা অবহেলা ও পদ্ধতিগত নির্যাতনের’ ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, বিশেষ করে গাজায় চলমান গণহত্যা শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে এসব নীতির মাত্রা আরও বেড়েছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা

