অন্যান্য আফ্রিকানদের লক্ষ্য করে চলা অভিবাসী বিরোধী বিক্ষোভের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারি সফর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করছে নাইজেরিয়া। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হওয়া এই সহিংস বিক্ষোভের কারণে হাজার হাজার অভিবাসী দেশটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এছাড়াও আন্দোলনের কারণে মহাদেশের অন্যান্য দেশের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।নাইজেরিয়ার জাতীয় পরিষদের ক্লার্ক কামোরু ওগুনলানা এক বিবৃতিতে বলেছেন, একাধিকবার সহিংস হামলার ফলে নাগরিকদের হত্যা, আহত ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার এবং তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ফেলে যেতে বাধ্য হওয়ার খবরে সংসদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তুলনামূলকভাবে অধিক সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা বহু বছর ধরেই নাইজেরিয়াসহ সমগ্র মহাদেশের বিদেশিদের আকৃষ্ট করে আসছে। তবে বিদেশিদের মাঝে মাঝে বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার (জেনোফোবিক ভায়োলেন্স) শিকারও হতে হয়েছে। দেশটিতে বিক্ষোভকারীরা উচ্চ বেকারত্ব, অপরাধ এবং জনসেবার ওপর চাপের জন্য বিদেশিদের দায়ী করে থাকেন।
গত জুনে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার সময় দুজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন; বিদেশিদের দেশ ছাড়ার জন্য বিক্ষোভকারীদের বেঁধে দেওয়া অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুদিন আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজনকে পুলিশ সদস্যরা এবং অন্যজনকে অজ্ঞাত হামলাকারীরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওগুনলানা বলেন, নাইজেরিয়ার পার্লামেন্টের এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ও বৈধ ব্যবসা পরিচালনাকারী নাইজেরীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে উদ্বেগের একটি জোরালো বহিঃপ্রকাশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত উত্তেজনা শুরুর পর থেকে প্রায় ৯০,০০০ মানুষ হয় স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন অথবা তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে এই সংখ্যাটি প্রায় ১,৭৮,০০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

