যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। গত কাল ৪ অক্টোবর রোববার পদত্যাগ করেছেন তিনি।
আজ সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে এ তথ্য। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকনেজাদ ‘ব্যক্তিগত’ কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং এখন থেকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী মন্ত্রণালয় সামলাবেন হামিদ বোভার্দ।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বলাভের আগ পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলনকারী কোম্পানি ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন হামিদ বোভার্দ।
ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকনেজাদকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় প্রেসিডেন্ট তা মেনে নেন। তবে অব্যাহতি দেওয়ার পূর্বে পেজেশকিয়ানের ইরানের জাতীয় জ্বালানি খাতের উন্নয়নে পাকনেজাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন বলে জানিয়েছেন তার দপ্তরের কর্মকর্তারা।
ইরানের তেল মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি (LNG)-র এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।
তারপর থেকেই তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং অননুমোদিতভাবে চলাচলের অভিযোগে বিভিন্ন জাহাজকে ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানকে তেল রপ্তানি থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পদত্যাগের আগে যা বলেছিলেন পাকনেজাদ
রয়টার্সের তথ্যমতে, পদত্যাগের খবর প্রকাশের আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পাকনেজাদের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমরা যে তেল বিক্রি করেছি তার অর্থ বা আয় এখনও আসছে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছায় তা অব্যাহত থাকবে।”
কনেজাদ ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
গত মাসে ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ তেল মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দুটি গোপন নথির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ঋণগ্রস্ত চারজন ট্রাস্টির কাছে বড় আকারের তেলের চালান বাকিতে এবং বিপুল মূল্যছাড়ের বিনিময়ে বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে মোহাম্মদ জাভাদ বাভান্দের নাম উল্লেখ করা হয়, যাকে পাকনেজাদ তেল বাণিজ্য তদারকির জন্য বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। মধ্যস্থতাকারীদের একটি নতুন নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধের গত সাত মাসে ইরানের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। আমেরিকার নৌ-অবরোধ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তেলের মজুদ বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সূত্র : এএফপি

