ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া দুটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস এবং অন্যান্য শহর-গ্রামের ধ্বংসাবশেষ থেকে এ পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও অন্তত ৭০০ জনকে। ভেনেজুয়েলার এ দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় সহানুভূতি জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেন, বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে অক্লান্তভাবে কর্মরত সাহসী উদ্ধারকর্মীদের সবার প্রতি আমাদের গভীর সহানুভূতি রইল।
আরেক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভেনেজুয়েলা সরকার ও জনগণের প্রতি, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আহতদের জন্য প্রার্থনা করি এবং এই কঠিন ও সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে আছি।
এদিকে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এই ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং তা ১ লাখ পার হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।
এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল, মেট্রো ও রেলসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে উদ্ধার তৎপরতায় নামানো হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

