সদ্যনির্মিত বাড়ি, তার বাইরে শৌচাগারের গর্ত খোঁড়া হচ্ছিল। পাঁচ ফুট গভীর সেই গর্ত খুঁড়তে খুঁড়তে তত ক্ষণে অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছিলেন বিবেক কুমাল। তার সহকর্মীরা দাঁড়িয়েছিলেন গর্তের বাইরে। সেই সময়ে আচমকাই পানির শোঁ শোঁ শব্দ কানে ভেসে আসে। প্রথম অভিঘাতে খানিক থমকেই গিয়েছিলেন বিবেকরা। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ধেয়ে এসেছিল স্রোতের তোড়।
কাদা-পাথরমিশ্রিত সেই স্রোত দেখে বিবেককে সতর্কও করেছিলেন সহকর্মীরা। তাকে জলদি উঠে আসতে বলেছিলেন; কিন্তু বিবেক যতক্ষণে গর্ত থেকে উঠে আসেন, ততক্ষণে দৌড় দিয়েছেন চার সহকর্মী। তা দেখে বিবেকও দৌড় দেন।
এবং অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে শেষ পর্যন্ত রাস্তার ধারে থাকা একটি আমগাছে আটকা পড়ে বছর চব্বিশের সেই যুবক কোনও ক্রমে প্রাণে রক্ষা পেলেন।
কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের শয্যায় শুয়ে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাই শোনালেন বিবেক। পেশায় মিস্ত্রি। কাজের সূত্রেই বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার নিম্ন অববাহিকার বিদুরে গিয়ে আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে যখন কথা বলছিলেন, তখনও তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। পাশেই বসা তাঁর ভাই। বিবেক বলছিলেন, “আমগাছটা না থাকলে বেঁচে ফিরতে পারতাম না। মরেই যেতাম। আমি যে বাড়িটায় কাজ করছিলাম, সেটা মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।”
ওই হাসপাতালেই অন্য একটি শয্যায় চিকিৎসাধীন ১১ বছরের রিহানা লামিছানে। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল সে। রিহানা বলে, “বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ তীব্র বেগে ধেয়ে আসে জলের স্রোত। বুকে আর পায়ে চোট লেগেছে। তবে আমি যে বেঁচে আছি, এটাই অনেক। আমার বন্ধুদের কী অবস্থা, আমি জানি না।”
পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিহানার মা রিতা লামিছানে বলেন, “খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছিলাম। মেয়ে বেঁচে গিয়েছে, বড় কোনও বিপদ হয়নি! ওর কিছু হয়ে গেলে যে আমি করতাম, জানি না।”
গত কাল বুধবার নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান দেখা দেয়। রাসুয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদী ভোটে কোশির অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিই এ বন্যার কারণ।
ভয়াবহ এই হড়পা বানে নেপালে ও তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৩৮০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।

