জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ‘পারমাণবিক ফাইল’ পাঠানোর প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাঘাই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার খসড়া প্রস্তাব তৈরির সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বারবার আইএইএ এবং সংস্থাটির মহাপরিচালকের ওপর নির্ভর করে। বাঘাই বলেন, ‘যখনই তাদের কাছে আর কোনো উপায় থাকে না, তারা সংস্থা এবং গ্রোসির শরণাপন্ন হয়।’
ইরানের এই মুখপাত্র প্রস্তাবিত পদক্ষেপকে বিভিন্ন দিক থেকে অর্থহীন বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা কার্যকর করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আগের প্রস্তাবগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলে দাবি করলেও, তাদের বর্তমান পদক্ষেপ সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাঘাই বলেন, এই পরিস্থিতি কার্যত ইরান, চীন ও রাশিয়ার অবস্থানকেই সমর্থন করছে। দেশ তিনটি শুরু থেকেই ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।
ইরানের মুখপাত্র এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত তিন ইউরোপীয় দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির—বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবিকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএ-এর প্রবেশাধিকার না থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন বাঘাই। তার ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতি তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণেই আইএইএ-এর প্রবেশাধিকার সীমিত হয়েছে।
বাঘাই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কূটনৈতিক সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন আইএইএ-এর দিকে ঝুঁকছে। তার মতে, সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো বিদ্বেষপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে ইরান অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করবে।’
একটি ফার্সি প্রবাদ উদ্ধৃত করে বাঘাই বলেন, ‘যা একবার চেষ্টা করা হয়েছে, তা আবার চেষ্টা করা ভুল।’ এর মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে এমন কোনো কৌশল পুনরায় অনুসরণ না করার বার্তা দেন।
সূত্র: তাসনিম নিউজ।

