জুলাই মাসে একঝাঁক ব্রিগেডিয়ার পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল হওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে জেনারেল আসিম মুনিরের আস্থাভাজন ও ফিল্ড কমান্ডে দক্ষ অফিসারদের বসানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই), মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং গুরুত্বপূর্ণ পদাতিক ডিভিশনগুলোতে নতুন শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে আসা হচ্ছে।
সবচেয়ে নজরকাড়া নিয়োগগুলোর একটি হলো মেজর জেনারেল আদিল ইফতিখার ওয়ারিয়াচকে ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (ডিজি) এমআই হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া। তিনি উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীরানশাহে অবস্থিত ৭ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন। সরাসরি কাউন্টার-টেররিজম থিয়েটারে ফিল্ড কমান্ড সামলানোর অভিজ্ঞতা থেকেই তাকে সেনা গোয়েন্দা শাখার এই শীর্ষ পদে আনা হলো। তিনি স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মেজর জেনারেল ওয়াজিদ আজিজের, যিনি ডিজি আইএসআই হওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এই রদবদলে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ডিরেক্টরেটে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ভারতের সার্বিক নিরাপত্তার জন্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল জাওয়াদ রিয়াজকে আইএসআইয়ের ডিজি পারসোনেল হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের নতুন ডিজি হচ্ছেন মেজর জেনারেল আতিফ রফিক। অন্যদিকে, মেজর জেনেরেল সাজিদ মাহমুদকে আইএসআইয়ের ‘জি ব্রাঞ্চ’-এর ডিজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা চায়না-পাকিস্তান ইকনোমিক করিডোর বা সিপেক, ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ও প্রযুক্তিগত বিষয়সমূহ দেখাশোনা করে। এছাড়া সিন্ধু প্রদেশের পাকিস্তান রেঞ্জার্স ডিজি পদে থাকা মেজর জেনারেল মুহাম্মদ শামরিজ খানকে আইএসআইয়ের ‘এস ব্রাঞ্চ’-এর প্রধান বা ডিজি এস করা হয়েছে। এই শাখাটি বিশেষ অপারেশন এবং আশপাশের দেশগুলোতে প্রক্সি নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, যা ভারতকেন্দ্রিক সন্ত্রাসবাদ ও বর্ডার অ্যাকশন টিম সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারককারী ‘এইচ ব্রাঞ্চ’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করে।
অশান্ত বেলুচিস্তান অঞ্চলের জন্য সেনা কমান্ড কাঠামোতে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। ৯৫তম পিএমএ লং কোর্সের মেজর জেনারেল জাফর ইকবালকে ফ্রন্টিয়ার কোর সাউথ বেলুচিস্তানের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, নতুন গঠিত ফ্রন্টিয়ার কোর ওয়েস্ট বেলুচিস্তানের প্রথম প্রধান বা আইজি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল আহমেদ ফারহান। আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্ত সংলগ্ন এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় এই দুই নিয়োগকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফরমেশনগুলোতেও রদবদল ঘটেছে। শিয়ালকোটে ১৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে মেজর জেনারেল জিল-ই-হাসনাইনকে। এটি নজরকাড়া, কারণ এই ফরমেশনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোনো আর্টিলারি অফিসারকে কমান্ড দেওয়া হলো। ওকারায় ১৪ পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্ব পাচ্ছেন মেজর জেনারেল ওয়াকাস কুরেশি এবং খারিয়ানে ১ কোরের অধীনে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মেজর জেনারেল খুররম সাবিরকে। সেন্ট্রাল কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়ে যাচ্ছেন মেজর জেনারেল হাসান মেহেদী।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট

