ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে যাত্রীবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌযান লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের এই দাবি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী থেকে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পরিচালিত এক অভিযানে আইআরজিসির ছয়টি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌযানের সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই মার্কিন সামরিক অভিযান গত ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং পুনরায় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন দাবির পর তেহরান তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, আইআরজিসির কোনও নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং মার্কিন বাহিনী সোমবার ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের দিকে যাওয়া দুটি ছোট যাত্রীবাহী নৌকায় হামলা চালায়।
ওই হামলায় নৌকাগুলো ধ্বংস হয়ে যায় এবং পাঁচজন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন বলে দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।”
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে
সাম্প্রতিক এই সহিংসতা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরুদ্ধ করে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে বিশ্ববাজারে তেল ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া। এর ফলে বৈশ্বিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রানজিট ফি আদায়ের ওপর জোর দিচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথে চলাচলকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

